কুমারখালী সরকারি কলেজ

কুষ্টিয়া জেলার ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী কুমারখালী উপজেলায় উচ্চশিক্ষার বাতিঘর হয়ে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ‘কুমারখালী সরকারি কলেজ’। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলের শিক্ষাদীক্ষা, মেধা ও সংস্কৃতির প্রসারে এক অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে কুমারখালী ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সাধারণ এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েদের হাতের নাগালে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে কলেজটির অবদান সত্যিই অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল ইআইআইএন (EIIN) নম্বর হলো ১১৭৭২৯

এই কলেজের পেছনের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হলো এর সময়কাল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঠিক প্রাক্কালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে কলেজটিকে সরকারীকরণ করা হয়, যা এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পাশাপাশি এর মর্যাদা ও শিক্ষা সেবার মানকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সমৃদ্ধ একাডেমিক পরিকাঠামো

শিক্ষার মান ও কাঠামোর দিক থেকে কুমারখালী সরকারি কলেজ একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এখানে শিক্ষার চমৎকার পরিবেশ ধরে রাখা হয়েছে:

  • উচ্চ মাধ্যমিক স্তর: যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (HSC) পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিনটি শাখাতেই এখানে পরম যত্নে পাঠদান করা হয়।
  • উচ্চতর শিক্ষা: উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা যাতে ঘরের কাছেই বড় ডিগ্রি নিতে পারে, সেজন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক (পাস) কোর্সের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্নাতক সম্মান বা ‘অনার্স’ কোর্স চালু রয়েছে।
  • সুযোগ-সুবিধা: অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক মণ্ডলীর কড়া নজরদারির কারণে প্রতি বছরই এইচএসসি ও ডিগ্রি পরীক্ষায় এখানকার শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করে। কলেজটিতে রয়েছে সুপরিসর ক্লাসরুম, জ্ঞানপিপাসা মেটানোর জন্য একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি এবং বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক গবেষণাগার বা ল্যাবরেটরি সুবিধা।

মনন বিকাশ ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রম

স্রেফ ক্লাসরুম আর পরীক্ষার খাতায় জিপিএ-৫ পাওয়ার অন্ধ দৌড়ে শিক্ষার্থীদের আটকে না রেখে, তাদের মানসিক বিকাশ ও নেতৃত্বগুণ তৈরির লক্ষ্যে কলেজটিতে নিয়মিত সহ-শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়:

  • সামাজিক সংগঠন: মানবিক গুণাবলী জাগ্রত করতে এখানে বাংলাদেশ রোভার স্কাউটস ও রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সক্রিয় ইউনিট কাজ করছে।
  • সৃজনশীলতা: প্রতি বছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ এবং জাতীয় দিবসগুলো এখানে অত্যন্ত মুখর ও মর্যাদার সাথে উদযাপিত হয়, যা শিক্ষার্থীদের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাগুলোকে বের করে আনতে দারুণ সাহায্য করে।
  • মনোরম ক্যাম্পাস: সবুজ গাছপালা আর সুন্দর স্থাপত্যে ঘেরা কলেজ ক্যাম্পাসটি পা রাখলেই মন ভালো করে দেয়। পড়াশোনার জন্য এমন শান্ত ও নিবিড় পরিবেশ সত্যিই দারুণ।

কুমারখালীর যুগল বাতিঘর

কুমারখালী উপজেলার শিক্ষার ইতিহাস ঘাঁটলে এই কলেজের পাশাপাশি আরও একটি প্রাচীন প্রতিষ্ঠানের নাম সমান্তরালভাবে চলে আসে—তা হলো ‘কুমারখালী এম. এন. পাইলট মডেল হাই স্কুল’। বলা যায়, এই দুটি প্রতিষ্ঠান মিলে কুমারখালী অঞ্চলের কয়েক প্রজন্মের হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষিত, আত্মবিশ্বাসী ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলেছে।

একটি তথ্যসমৃদ্ধ জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কুমারখালী সরকারি কলেজ তার গৌরব ও ঐতিহ্যের ধারা অক্ষুণ্ণ রেখে আজও মাথা উঁচু করে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।

আরও দেখুন: