রাগের ব্যকরণিক বাধ্যবাধ্যকতা আছে। এছাড়া প্রতিটি রাগের কিছু বেসিক এ্যাট্রিবিউট আছে। রাগ বোঝার জন্য এগুলো জানতে হবে। আমি এই আর্টিকেলে মুল নিয়ম কানুনের একটি স্ট্রাকচার দেব। যেখানে আরও বিস্তারিত জানা দরকার নেই সব টেক্সট এর সাথে লিক দিয়ে দেব অন্য আর্টিকেলের। রাগের মৌলিক বিষয় গুলো আলোচনা করেছি লিংকের আর্টিকেলটিতে। এই আর্টিকেলে রাগের বাদী-সমবাদী, চলন, পাকাড় এর পরিচয় করিয়েছি। ওখানে অবশ্য সঙ্গীতের শ্রেতার জায়গা থেকে লেখা হয়েছে। তাবে রাগের কঠকোট্টা কয়েকটি জিনিস নোট নিয়ে রাখা যাক।

একটি রাগে অবশ্যই অন্তত পাঁচটি স্বর থাকতে হবে। এতে অবশ্যই ‘ষড়জ’ বা ‘সা’ (Tonic) থাকতে হবে এবং এর পাশাপাশি ‘মা’ (মধ্যম) অথবা ‘পা’ (পঞ্চম)—এই দুটির অন্তত একটি স্বর থাকা অনিবার্য। যেসব স্বরের রূপ পরিবর্তিত হয় (যেমন—রে, গা, মা, ধা বা নি), তাদের উভয় রূপ (শুদ্ধ ও বিকৃত) সাধারণত পরপর ব্যবহার করা উচিত নয়, যদিও এর কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে।
একটি রাগকে বর্ণনা করার সবচেয়ে প্রচলিত উপায় হলো তার আরোহণ-অবরোহণ (Ascent-Descent)। এটি সাধারণত মধ্য সপ্তকের ‘সা’ থেকে তার সপ্তকের ‘সা’ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, যদিও সব রাগ মধ্য ‘সা’ থেকে শুরু হয় না। যখন কোনো রাগের আরোহণ ও অবরোহণ উভয় ক্ষেত্রেই সাতটি স্বরই বিদ্যমান থাকে, তখন তাকে বলা হয় ‘সম্পূর্ণ’ রাগ। ছয় স্বরের রাগকে ‘ষাড়ব’ এবং পাঁচ স্বরের রাগকে ‘ঔড়ব’ বলা হয়। তবে এমন অনেক রাগ আছে যেখানে আরোহণ ও অবরোহণের স্বরসংখ্যা এক নয়; যেখানে আরোহণে এক বা একাধিক স্বর বর্জিত হতে পারে (অবরোহণে বর্জিত হওয়ার ঘটনা তুলনামূলক কম)। এছাড়া রয়েছে ‘সংকীর্ণ’ বা ‘মিশ্র’ রাগ, যেখানে আরোহণ বা অবরোহণে কোনো স্বরের উভয় রূপ (শুদ্ধ এবং কোমল/কড়ি) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে সাতটির বেশি স্বরও থাকতে পারে।
একটি রাগকে তার এক বা একাধিক মুখ্য স্বরসমষ্টি বা ‘পকড়‘ (Motif) দিয়ে আরও স্পষ্টভাবে চেনা যায়। এছাড়া রাগের চলন বা বিকাশের সংক্ষিপ্ত রূপকে ‘চলন‘ বলা হয়, যা রাগের সামগ্রিক কাঠামোর একটি চিত্র তুলে ধরে। রাগের বর্ণনায় আমরা মূলত এই ‘চলন’-এর ওপর গুরুত্ব দিয়েছি, যা আরোহণ ও অবরোহণের পর্যায়ক্রমিক স্বরসমষ্টির মাধ্যমে দেখানো হয়েছে। স্বরগুলো সরল রেখায় বিন্যস্ত হতে পারে, আবার বাঁকা বা ‘বক্র’ (Vakra) গতিতেও চলতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই দুইয়ের সংমিশ্রণ দেখা যায়, কারণ সব রাগে সরাসরি আরোহণ-অবরোহণ অনুমোদিত নয়।
একটি রাগ কেবল তার খাতা-কলমের নিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আসলে অনেক বেশি জীবন্ত, বৈচিত্র্যময় এবং এর বিস্তারও অনেক গভীর। তবে একজন অভিজ্ঞ ওস্তাদের তৈরি করা ‘চলন’ বা স্বর চলাচলের ভঙ্গিটি দেখলে রাগের আসল নিয়ম-কানুন এবং প্রতিটি স্বরের সঠিক ব্যবহার খুব সহজেই বোঝা যায়। একেকজন শিল্পী এই চলনটিকে একেকভাবে সাজাতে পারেন; এটি মূলত নির্ভর করে তিনি কোন গান বা বন্দিশের ওপর ভিত্তি করে রাগটি গাইছেন বা বাজাচ্ছেন তার ওপর। তবে চেনা-জানা সাধারণ রাগগুলোর ক্ষেত্রে এই চলন বা সুরের গতি নিয়ে বড় ধরনের কোনো মতভেদ সাধারণত দেখা যায় না। চলন দেখে চট করে রাগ চেনা যায়।
রাগে যে স্বরটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় বা দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা হয়, তাকে সাধারণত ‘বাদী’ স্বর বলা হয়। তাত্ত্বিকভাবে, বাদী স্বরের সাথে চতুর্থ বা পঞ্চম দূরত্বের ব্যবধানে আরেকটি শক্তিশালী স্বর থাকা উচিত, যাকে বলা হয় ‘সংবাদী বা সমবাদী’।
রাগের সাথে ঠাটের সম্পর্ক আছে। তবে ঠাট একটি কেতাবী বিষয়। রাগ গুলোকে গ্রুপ করার জন্য এই থিওরির ব্যাবহার হয়। একটি কমন প্রশ্ন আসে শুরুর দিকে শ্রোতার মনে – রাগ আগে না ঠাট? সেটারও একটি উত্তর রইলো।
রাগের জাতি ও একটি কেতাবি বিষয়।

আমাদের এদিকের রাগ সঙ্গীত যেহেতু সময় নির্ভর, তাই রাগ শোনা /পরিবেশিনের সময় বা প্রহর শাস্ত্রের অংশ।
সঙ্গীতে রস গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই ভাব-রসও শাস্ত্রের অংশ।

আরও পড়ুন:
![রাগের ব্যাকরণ বা শাস্ত্র সূচি Raga Grammar Index রাগের ব্যাকরণ বা শাস্ত্র সূচি । অসুরের সুরলোকযাত্রা সিরিজ 1 রাগের ব্যাকরণ বা শাস্ত্র সূচি [ Raga Grammar Index ]](https://sufifaruq.com/wp-content/uploads/2023/07/রাগের-ব্যাকরণ-বা-শাস্ত্র-সূচি-Raga-Grammar-Index-.png)